সিজারের পর কোমরে ব্যাথা , পিঠে ব্যাথা  হলে করণীয় / সিজার পরবর্তী কোমর ব্যাথা

সিজারের পর কোমরে ব্যাথা , পিঠে ব্যাথা হলে করণীয় / সিজার পরবর্তী কোমর ব্যাথা

সিজারের পর কোমরে ব্যাথা  , তলপেটে ব্যাথা, পিঠে ব্যাথা   খুবই কমন একটা সমস্যা । বিভিন্ন কারনে সিজারের পর কোমরে ব্যথা, পিঠে ব্যাথা হয়ে থাকে । বিশেষ কোন একটি কারন নয় , অনেক কারনেই সিজারের পর এই পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যাথা  হয়ে থাকে ।  সিজারের পর ব্যাথা হলে করনীয় কি এইসব অনেকেই জানতে চেয়েছেন , আপনাদের জন্য এই ব্লগ ।

সিজারের পর কোমরে ব্যাথা
বাচ্চাকে ফ্লোর থেকে যেইভাবে কোলে নিবেন

সিজারের পর কোমর ব্যাথা ,পিঠে ব্যাথা হওয়ার কারন গুলো  হল –

১। হরমোনাল  পরিবর্তন ঃ

সিজারের পর কোমর ব্যাথা, পিঠে ব্যাথা র জন্য হরমোনাল পরিবর্তনই বেশি ভুমিকা রাখে ।

গর্ভাবস্থায় শুধু পেটই বড় হয় না , সাথে আরো অনেক কিছুর পরিবর্তন হয় । বিশেষ করে মাংসপেশির অনেক বড় একটা পরিবর্তন হয়, যার জন্য সিজারের পর  কোমরে ব্যাথা বেশী হয়ে থাকে ।

বাচ্চা প্রস্রবের প্রস্তুতি  হিসেবে গর্ভাবস্থায় এক ধরনের প্রেগনেন্সি হরমোন রিলিজ হয় , যেটা লিগামেন্ট জয়েন্টকে নরম করে । যার ফলে সহজে বাচ্চা প্রসব হয় । আপনি নরমাল ডেলিভারী করান আর সিজার করান , এই প্রক্রিয়া অবশ্যই হয়ে থাকে ।

এই সময় যেহেতু  মাসল , লিগামেন্ট , জয়েন্ট নরম থাকে থাকে ,  তাই  হালকা আঘাত বা স্ট্রেচ পরলেই মাসল ইনজুরি হয় । আর এই কারনে  সিজারের পরে কোমর ব্যথা, পিঠে ব্যথা হয় ।

তবে ভাল সংবাদ হল  আপনার কাজে সাথে সাথে মাসল লিগামেন্ট জয়েন্ট শক্ত হতে থাকে , সেই ক্ষেত্রে আপনি কিছু এক্সারসাইজ করলে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত ভাল হয় এবং ভাল্ভাবে হয় ।

 

২। অতিরিক্ত ওজনঃ

বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত ওজনের কারনে কিছু ওজনের শরীরের গঠনে কিছু পরিবর্তন আসে , যার সিজারেরর পরে কোমরে ব্যাথা  ,পিঠে ব্যাথা হয়ে থাকে ।

৩। বাচ্চা কোলে রাখাঃ

ডেলিভারির পরে বাচ্চা কোলে নিচ্চেন , সামনে ঝুঁকে বাচ্চাকে বার বার নিচ থেকে তুলতেছেন । এতে করে কোমর এবং পিঠের মাসলে বার বার টান পরতেছে , যার জন্য মাসল ইনজুরি হতে পারে । স্বাভাবিক ডেলিভারি বা  সিজারের পর বা সিজার পরবর্তী  কোমর ব্যথা  , পিঠে ব্যাথা  এইসব কারনেই বেশি হয়ে থাকে ।

 

৪। বাচ্চাকে দুধ খাওয়া

বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় দীর্ঘক্ষন হয়তো বসে আছেন কিংবা সামনে ঝুঁকে ঝুঁকে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছেন ,  ফলে পিঠ কোমরের মাসলে স্ট্রেচ পড়তেছে ।  যার জন্য সিজারের পর কোমর ব্যাথা  বা পিঠে ব্যাথা  হচ্ছে ।

 

৫ । অ্যানেসথেসিয়া ঃ

সিজারের পর কোমর ব্যথা , পিঠে ব্যথার অন্যতম বড় কারন  অ্যানেসথেশিয়া । সিজারিয়ান  অপারেশনের জন্য ইপিডুরাল ইনজেকশন দিতে হয় । অর্থাৎ অপারেশনের জায়গা টুকুকে  অবচেতন করতে হয় । এই ইনজেকশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা মাসল স্পাজম । যার জন্য সিজারের পর  কোমর ব্যাথা  , পিঠে ব্যাথা  হয়ে থাকে  ।

 

কিভাবে দূর করবেন সিজারের পর কোমর ব্যাথা, পিঠে ব্যাথা  

 

১। গরম পানি

নরমাল ডেলিভারী বা সিজারেরর পর নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন । এতে করে মাসল রিলাক্স হয় । সিজারের পর কোমর ব্যাথা , পিঠে ব্যাথার ঝুঁকি অনেক কমে যায় ।

 

২। শরীরের পজিশন ঠিক রাখবেন

সোজা হয়ে বসে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াবেন , হাঁটু ভাঁজ করে সোজা হয়ে বসে বাচ্চাকে কোলে তুলবেন । অনেকেই সামনে ঝুঁকে বাঁকা হয়ে  বাচ্চাকে নিচ থেকে কোলে নেয় বা  ভারী কিছু তুলে উপরে তোলে , এতে করে কোমরে চাপ পরে । যার জন্য বেশি সমস্যা হয়ে থাকে ।  সিজারের পর কোমর ব্যাথার ঝুঁকি কমাতে সঠিক নিয়মে কাজ করার বিকল্প নেই ।

 

৩। এক্সারসাইজ

নিয়মিত কিছু এক্সারসাইজ করবেন । সিম্পল এক্সারসাইজ করবেন ।গর্ভাবস্থায় এবং সিজারের পর   এক্সারসাইজ খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয় । তাই নিয়মিতভাবে হালকা কিছু এক্সারসাইজ করবেন  । বিশেষ করে হালকা স্ট্রেচিং , কিগল এক্সারসাইজ , হালকা স্ট্রেন্দিং এক্সারসাইজ করবেন । সিজারের পরে কোমর ব্যাথা, পিঠে ব্যাথার অন্যতম বড় কারণ এক্সারসাইজ না করা ।

 

৪।  বিশ্রাম

বাচ্চাকে যত্ন নেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে নিজেও রেস্ট দেবেন । আপনার শরীরের রিকভারির জন্য পর্যাপ্ত রেস্ট  প্রয়োজন । সিজারের পর পর্যাপ্ত রেস্ট নিবেন, পানি খাবেন । এতে করে কোমরের ব্যাথা, পিঠে ব্যাথাসহ যেকোন ব্যাথাই কম হবে ।

 

সিজারের কোমর ব্যাথা , পিঠে ব্যাথা বেশি হলে অবশ্যই একজন গাইনোকলজিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিবেন । ফিজিওথেরাপিস্ট আপনাকে দেখে এসেস করে চিকিৎসা দিলে কিংবা বাসায় কিছু এক্সারসাইজ করলে সেইক্ষত্রে  দ্রুত উন্নতি পাবেন ।

 

ধন্যবাদ

ডাঃ সাইফুল ইসলাম

ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি ( ঢাবি) ,

মাস্টার্স অব ফিজিওথেরাপি ( অর্থোপেডিক) , ইন্ডিয়া ।

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান , ফিজিওথেরাপি সেন্টার ,উত্তরা , ঢাকা ।

০১৯৩২-৭৯৭২২৯

 

ইউটিউবে ভিডিও দেখতে

https://youtu.be/1v56oqHc3j8

This Post Has One Comment

Leave a Reply