জিবিএস কি ?   জিবিএস এর লক্ষণ | জিবিএস এর চিকিৎসা

জিবিএস কি ? জিবিএস এর লক্ষণ | জিবিএস এর চিকিৎসা

জিবিএস এক ভয়ানক সমস্যা । অনেক সময় কোন লক্ষন-ই নেই, হঠাৎ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, দুই পা নাড়াতে পারছেন না। আস্তে আস্তে হাতও নাড়াতে পারছেন না । কি হতে পারে এটা ?  এটা কি  জিবিএস  ? নাকি স্ট্রোক ?   জিবিএস হলে কি করবেন ?  কি  হতে পারে ভয়ানক এই  জিবিএস এর চিকিৎসা ?

জিবিএস রোগ কি ?

গুলেন বারি সিনড্রোম ( Guillian Barre Syndrome)  কে সংক্ষেপে বলে জিবিএস (GBS) ।
জিবিএস রোগ এক ধরনের নিউরোলজিক্যাল ডিজিজ , এটা হলে সাধারনত শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে শক্র ভেবে  শরীরের  অন্যান্য  অংশ বিশেষ করে  হাত পা, বুকের নার্ভ গুলো ( পেরিপেরাল নার্ভ )  কে আক্রমন করে  । যেই কারনে  জিবিএস হলে হাত পা ঝিন ঝিন করে ,  প্রথমে পা , পরে হাত , পুরো শরীর আস্তে আস্তে অবশ হয়ে যায় । আক্রমন তীব্র হলে বুকের মাসল দুর্বল হয়ে শ্বাস প্রশ্বাসে বাঁধা গ্রস্ত করে যার  , সেই ক্ষেত্রে জিবিএস এর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন ।

জিবিএস এর চিকিৎসা

জিবিএস কেন হয়

জিবিএস কেন হয় , এটার একেবারে সঠিক কারণ এখনো জানা যায় নাই । বিজ্ঞান এখনো বলতে পারে নাই ,  জিবিএস ভাইরাস কেন কিছু লোকের হয় ,  আবার কেন এটা অন্যদের হয় না । তবে এটা কোন সংক্রামক রোগ নয় বা বংশগত কোন রোগ নয় ।

সাধারনত আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম শরীরে কোন রোগ জীবানু ঢুকলে তাকে আক্রমন করে শরীরকে  রোগ থেকে রক্ষা করে । কিন্তু দু;খজনক বিষয় হল ,  এখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম শরীরের অন্যান্য পার্টকে বিশেষ করে পেরিপেরাল নার্ভ  ( হাত পায়ের নার্ভ  বা স্নায়ু ) কে শক্র ভেবে আক্রমন করে ।  তবে ব্রেইন এবং স্পাইনাল কর্ড আক্রমন করে না ।    অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জিবিএস লক্ষণ দেখা যায়  এ বিশেষ করে পাতলা পায়খানা এবং ফুসফুসের ইনফেশনের পর  ( ভাইরাল ইনফেকশন ) ।  জিবিএস এর চিকিৎসা সময় মত হওয়া প্রয়োজন , সমস্যা বেশি হলে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় ।

 

 

জিবিএস রোগের লক্ষণ

জিবিএস এর  চিকিৎসা দেরি হওয়ার মূল কারণ অনেক সময় রোগীর আত্নীয়স্বজন বুঝতেই পারে না রোগীর কি হয়েছে । তাই জিবিএস রোগের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে আমাদের সবার কম বেশ ধারনা থাকা উচিত ।
জিবিএস রোগ এর মূল লক্ষণ হল হঠাৎ করে হাত পা ঝিন ঝিন করা , ব্যথা  , প্রথমে পা অবশ শুরু হয়ে যায় , পরে আস্তে আস্তে হাতও অবশ হয় । রোগী হাঁটতে অপারগতা প্রকাশ করে ,  প্রথমদিক হাঁটতে কষ্ট হয় , পরে আস্তে আস্তে হাঁটাও বন্ধ হয়ে যায় । আস্তে আস্তে বুকের মাংসপেশি গুলোও দুর্বল হতে থাকে , শ্বাসকষ্ট  হয় , খাবার গিলতে অসুবিধা হয় । চোখের পাতাও দুর্বল হয়ে যায় , দেখতেও সমস্যা হতে পারে ।

জিবিএস  হলে কেন হাত পায়ের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায় , হাত পা ঝিন ঝিন করে

আমাদের শরীরে পেরিপেরাল নার্ভ বা স্নায়ুগুলো অনেকটা বাড়ির ঘরের ইলেকট্রিক তারের মত । তারের উপর যেমন একটা রাবারের কভার থাকে , ভিতরে তারটা থাকে ;  ঠিক তেমনি নার্ভের উপরেও এইরকম একটা কভার থাকে যাকে আমরা বলি মায়োলিন সিথ ,  জিবিএস হলে এই মায়োলিন সিথ ধ্বংস হয়ে যায় । ফলে ব্রেইন সঠিকভাবে কোন সিগনাল হাত পা কে দিতে পারে না , সেইজন্য হাত পা দুর্বল হয়ে যায় । নার্ভ ডেমেজের কারণে  সঠিকভাবে কোন সিগনাল  হাত পা  থেকে ব্রেইনেও যেতে পারে না , উলটা পালটা সিগনাল যাওয়ার কারনে হাত পা ঝিন ঝিন বা ব্যথা করে ।  নার্ভগুলো ভাল হতে সময় লাগে , যেই কারনে  জিবিএস এর চিকিৎসা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার ।

জিবিএস কিভাবে ডায়াগনোসিস করতে হয়

প্রথম দিকে লক্ষন গুলো দেখে জিবিএস ডায়াগনোসিস করা কঠিন বিষয় । কারণ একই লক্ষন আরো অনেক রোগেরই হয়ে থাকে । তাই অনেক সময় বেশি কিছু পরীক্ষা করতে হয় , অনেক সময় ডায়াগনোসিস করতেও  সময় লাগে । তবে জিবিএস ডায়াগনোসি করার জন্য রোগীর আত্নীয়স্বজনের কথা বার্তাও গুরুত্বপূর্ন । রোগের লক্ষন এবং রোগের ইতিহাস শুনেই অধিকাংশ ডায়াগনোসিস সম্ভব ।   কারণ জিবিএস এর সঠিক চিকিৎসা করতে হলে সঠিক ডায়াগনোসিস গুরুত্বপূর্ন ।

জিবিএস এর চিকিৎসা 

জিবিএস রোগের জন্য গবেষনায় প্রমানিত কোন চিকিৎসা নেই , যেই চিকিৎসা দিলে রোগী ভাল হয়ে যাবে ।  যাই হোক , কিছু থেরাপি  আছে  , যেইগুলো দিলে রোগের তীব্রতা কমে আসবে এবং রোগী কম সময়ে ভাল হবে ।  বিশেষ করে জিবিএস এর সমস্যা বেশি হলে রোগীর শ্বাসকষ্ট সহ বেশ কিছু সিরিয়াস সমস্যা দেখা দেয় , সেইগুলোর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয় । জিবিএস এর চিকিৎসা দুইভাবে দিতে হয় । একিউট কেয়ার , পুনবার্সন সেবা ।

 

 

একিউট কেয়ার

একিউট কেয়ার হল রোগীকে  হাসপাতালে নিলে সাথে সাথে যেই চিকিৎসা দেওয়া হয় সেটাই । সাম্প্রতিক সময়ে জিবিএস এর রোগীকে হাসপাতালে নিলে কমন দুইটা চিকিৎসা দেওয়া হয় , নার্ভ বা স্নায়ু ডেমেজ  বাধাগ্রস্ত করতে ।

একটা হল প্লাজমা এক্সচেইঞ্জ ( প্লাজমাপেরেসিস ) , অন্যটা হল উচ্চ মাত্রার ইমিনোগ্লোবিন থেরাপি । রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে দিতে পারলে দুইটাই সমান কার্যকরী । তবে ইমিনোগ্লোবিন দেওয়া টা অনেকটা সহজ প্লাজমা এক্সচেইঞ্জের চেয়ে ।   একজনকে দুইটা চিকিৎসা একত্রে দিলে কোন লাভ হয় না  ।

 

রিহ্যাবিলিটিশন বা পুনবার্সন

জিবিএস এর একিউট কেয়ার শেষ হলে রিহ্যাবিলিটেশনে ওয়ার্ডে পাঠানো হয় । জিবিএস চিকিৎসার অনেক বড় একটা ধাপ পুনবার্সন বা রিহ্যাবিলিটেশন।  জিবিএস এর রোগীকে  পুনবার্সন করতে ফিজিওথেরাপি  , অকুপেশনাল থেরাপি দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজন হয় । রোগীকে শোয়া থেকে বসানো , দাঁড়ানো , হাটানো সব কিছু থেরাপিস্ট ধাপে ধাপে করে থাকে ।

 

 

জিবিএস ভাল হতে কতদিন সময় লাগে

জিবিএস ভাল হতে কতদিন সময় লাগে সেটা নির্ভর জিবিএস এর চিকিৎসার উপর । সঠিক একিউট কেয়ার এবং পুনবার্সন ভাল হলে ৭০% জিবিএস রোগী সম্পূর্ন ভাল হয়ে যায় । সেটা কয়েক সপ্তাহ থেকে দুই বছরও লাগতে পারে । কারো কারো ক্ষেত্রে ৩ বছরও লাগতে পারে ।  ১৫%  এর ক্ষেত্রে  দেখা যায় তাদের হাতে সাপোর্ট দিয়ে  হাঁটতে হয়  । কাউকে কাউকে  হুইল চেয়ারও ব্যবহার করতে হয় ।

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ,
ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার,
হাউজ ২৩ , লেক ড্রাইভ রোড, সেক্টর ৭ , উত্তরা  ঢাকা।
এপয়েনম্যান্ট ০১৯৩২৭৯৭২২৯
জিবিএস নিয়ে ইউটিউবে ভিডিও দেখুন

Leave a Reply