কোমর ব্যথা দূর করতে কি খাবেন , কি খাবেন না

কোমর ব্যথা দূর করতে কি খাবেন , কি খাবেন না

কোমর ব্যথা কমানোর উপায় বা কোমর দূর করার উপায় বা কোমর ব্যথায় ব্যথানাশক খাবার

কোমর ব্যথা খুবই কমন একটা বিষয় । আমাদের প্রত্যেকেরই কম বেশ কোমর হয় বা হয়েছে । কোমরের ব্যথা কমানোর উপায় বা কোমর ব্যথা দূর করার উপায় নিয়ে অনেক ভিডিও বা আর্টিকেল আছে , কি খেলে ব্যথা কমবে এই বিষয় ইভিডেন্স বেইজড বাংলা তেমন কোন আর্টিকেল  নেই বললেই চলে । কোমর ব্যথার জন্য নিয়মিত এক্সারসাইজ এবং ফিজিওথেরাপির যেমন বিকল্প নেই , তেমনি  খাবারের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় । কিছু খাবার খেলে ইনফ্লামেশন বাড়ে ফলে ব্যথাও বেড়ে যায় , আবার কিছু খাবার খেলে ইনফ্লামেশন কমে ফলে ব্যথাও কমে যায় । এই আর্টিকেলে আমরা ব্যথানাশক খাবার , বাতের ব্যথার খাবার  নিয়ে আলোচনা করব । ব্যথানাশক  ঔষধ বা ব্যথার ঔষধ না খেয়ে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি এবং খাবার নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে কোমর ব্যথা নিয়ন্ত্রন করা যায় সহজেই ।

 

ব্যথানাশক যে খাবার খেলে ইনফ্লামেশন কমে অর্থাৎ কোমর ব্যথা কমে যায়

১। আদাঃ কোমর ব্যথা কমানোর জন্য আদা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন জিনিস । প্রতিদিন ২-৩ চা চামচ আদা খেলে কোমর ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে অনেক উপকার পাবেন । বিশেষ করে আদা চা খেতে পারেন । এছাড়া তরকারিসহ বিভিন্ন খাবার সাথে মিশ্রিত করে আদা খেতে পারেন । ব্যথানাশক খাবার হিসেবে আদা খুব জনপ্রিয় ।

 

২। হলুদঃ আমাদের শরীরে কোথাও কাটা হেলে সেটা ভাল হতে হলুদ খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে । হলুদ আমাদের শরীরের হিলিং প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে । হলুদে এন্টি-ইনফ্লামেটরী প্রভাব আছে , ফলে হলুদ ব্যথা কমতে সাহায্য করে । প্রাচীন কাল থেকে হলুদ শরীরের হিলিং প্রসেসকে উন্নত করতে ব্যবহার হয়ে আসছে ।

 

৩। বাদামঃ বাদামে খুবই শক্তিশালী এন্টি ইনফ্লামেটরী খাবার । তাই ব্যথানাশক খাবার হিসেবে বাদাম খাওয়া যেতে পারে । চিনা, কাজু বাদাম , আমন্ড , আখরোট ,কাঠ বাদাম  সব বাদামই পুষ্টিকর । প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ গ্রাম বাদাম খাওয়া উচিত । কোমর ব্যথা কমানোর উপায়  হিসেবে বা  ব্যথানাশক খাবার  হিসেবে নিয়মিত বাদাম খেতে পারেন ।

কোমর ব্যথা কমানোর উপায়

৪।  কফিঃ কোমর ব্যথা সহ যেকোন ব্যথা কমানোর উপায় হিসেবে  কফি পেইন কিলার হিসেবে ব্যবহার করা যায় । কফিতে পেইন দূর করার উপাদান আছে । তাই কোমর ব্যথা কমনোর উপায় হিসেবে নিয়মিত ২ কাফ কফি খেতে পারেন ।  প্রতিদিন ২ কাপ করে খেলে ওয়ার্ক আউটের পর কোমর ব্যথা ৫০% কমে যায় । তবে কফি খাওয়ার কিছুক্ষন পর অবশ্যই এক গ্লাস পানি খাবেন , কারণ কফি ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ কফি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় , তাই বেশি প্রস্রাব হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখে দিতে পারে । তাই পানিশূন্যতা দূর করার জন্য কফি খেলে পানি পান করার পরিমাণ বাড়াতে হবে ।

 

 

৫। আঙ্গুরঃ লাল আঙ্গুর কোমর ব্যথা কমানোর জন্য ইয়াংরা খেতে পারেন  । এতে এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে , যেটা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে । তবে আঙ্গুরে রেজব্রেটল আছে যেটা টিস্যূ রিজেনারেশন এনজাইমকে ব্লক করতে হেলপ করে ফলে কার্টিলেজ ডেমেজ হয় , বেশি বয়সীদের ব্যথার জন্য আঙ্গুর না খাওয়াই ভাল ।

 

 

৬। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড খাবার ঃ বিশেষ করে স্যালমন ফিস, ব্রোকলি তে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে । এটা এন্টি ইনফ্লামেটরী খুবই ভাল কার্যকরী  এবং  তাই কোমর ব্যথা কমানোর উপায় হিসেবে খাবার খেতে চাইলে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড অবশ্যই খাবেন ।

 

 

কোমর ব্যথা কমানোর উপায় – কি কি খাবার খাব না

কি কি খাবার খেলে কোমর ব্যথা দূর হয়ে যাবে সেটা আমরা জান্লাম, এখন কি কি খাবার খেলে কোমর ব্যথা বেড়ে যাবে ,কোমর ব্যথা কমানোর উপায় কি সেটা জানব –

 

কিছু কিছু খাবার খেলে ইনফ্লামেশন বেড়ে যায় , ফলে আমাদের ব্যথাও বেড়ে যায় । বিশেষ করে ব্যথার সময় ভেজিটেবল অয়েল খাব না , এতে  ব্যথা বেড়ে যাবে । এছাড়া ফাস্টফুড জাতীয় খাবার, বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার , চর্বিজাতীয় খাবার খেলে ইনফ্লামেশন  বাড়তে পারে । তাই ব্যথার সময় এই খাবারগুলো পরিহার করতে হবে ।

 

ধন্যবাদ

ডাঃ সাইফুল ইসলাম

বিপিটি (ঢাবি) , এমপিটি (অর্থোপেডিক)

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান , ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার , উত্তরা , ঢাকা ।

 

Leave a Reply