ডায়াবেটিস কি , ডায়াবেটিস কেন হয়  এবং  ডায়াবেটিস কমানোর সহজ উপায়

ডায়াবেটিস কি , ডায়াবেটিস কেন হয় এবং ডায়াবেটিস কমানোর সহজ উপায়

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়  কি

 

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় জানতে হলে প্রথমে আমাদের জানতে হবে ডায়াবেটিস কি ?

ডায়াবেটিস মেলিটাস কে সংক্ষেপে আমরা বলি ডায়াবেটিস ।  ডায়াবেটিস হল  আমাদের শরীরের এক ধরনের মেটাবলিক রোগ। ডায়াবেটিস হলে আমাদের শরীরে  গ্লূকোজ বা সুগারের পরিমাণ প্রয়োজনীয়  লেভেলের চেয়ে অতিরিক্ত বেড়ে যায় ।  হার্ট এটাক , স্ট্রোক এবং কিডনি ডেমেজ সহ অনেক সমস্যার জন্যই ডায়াবেটিস দায়ী ।

 

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ডায়াবেটিস এর কমন কিছু লক্ষনসমূহ –

 

১। অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা

২। অতিরিক্ত পানির তৃষ্ণা লাগা

৩। ওজন কমে যাওয়া

৪। বার বার প্রস্রাব হওয়া

৫। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে

৬। অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভব হতে পারে

 

 

ডায়াবেটিস কত প্রকার

 

সাধারনত ডায়াবেটিস দুই ধরনের –

টাইপ ১ ডায়াবেটিস

টাইপ ২ ডায়াবেটিস

 

এছাড়া প্রিডায়াবেটিস , গ্যাস্ট্রেশনাল ডায়াবেটিস  । প্রিডায়াবিটিস হল সুগার লেভেল স্বাভাবিক লেভেলের চেয়ে একটু বেশি । প্রি-ডায়াবেটিস কে বলা যায় ডায়াবিটিস শুরু হওয়ার পর পূর্বের অবস্থা । গ্যাস্ট্রেশনাল ডায়াবেটিস হল গর্ভাবস্থায় হরমোন জনিত কারনে সৃষ্ট এক ধরনের ডায়াবেটিস । অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাচ্চা প্রসবের পর এই ধরনের ডায়াবেটিস আর থাকে না ।

তবে ডায়বিটিস বলতে আমরা সাধারনত টাইপ ১  এবং টাইপ ২ ডায়বিটিসকে বুঝানো হয় । দুইটা টাইপ আলাদা হলেও দুইটাই  খারাপ ডায়াবেটিস । ডায়াবেটিস কমানোর উপায় মানেই ডায়াবেটিস টাইপ ২ কে বুঝানো যায় । কারণ এটা নিয়ন্ত্র করা যায় ।

 

ডায়াবেটিস হলে কি হয়

টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস দুইটাতেই রক্তে গ্লূকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় । গ্লূকোজ  আমাদের শরীরে শক্তির জন্য খুবই প্রয়োজন । কারণ এই গ্লূকোজই আমাদের শরীরে শক্তি  যোগায় । আমরা প্রতদিন যেই খাবার খাই বা পান করি, এটা থেকে কার্বোহাইড্রেট ভেঙ্গে গ্লূকোজ হয় , গ্লূকোজ রক্তে প্রবেশ করে । এই গ্লূকোজ ইনসুলিন নামক হরমোনের সাহায্যে রক্ত থেকে   শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রবেশ করে । শরীর তখন খাবার পেয়ে শক্তি পায় । ইনসুলিন তৈরি হয় প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয় থেকে ।

শরীরে ডায়াবেটিসের কোন সমস্যা না থাকলে, গ্লূকোজ রক্তে প্রবেশ করার সাথে সাথে প্যানক্রিয়াস একটা সিগনাল পায় এবং প্যানক্রিয়াস সাথে সাথে ইনসুলিন উৎপাদন শুরু করে ।  এই ইনসুলিনের সাহায্যে গ্লূকোজ রক্ত থেকে শরীরের কোষে প্রবেশ করে । শরীরের কোষগুলো খাদ্য পায় । এইভাবে আমাদের শরীরে গ্লূকোজ এবং ইনসুলিনের  ভারসাম্য লেভেলের  কারনে আমরা বেঁচে আছি ।

 

এখন কারো শরীরে যদি ডায়বেটিস  থাকে তখন এই গ্লূকোজ আর ইনসুলিনের এই ভারসাম্য লেভেল বজায় থাকে না । অনেক সময় পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন হয় না বা উৎপাদিত ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করে না কিংবা কোন ইনসুলিন উৎপাদনই হয় না ।   ফলে এই ইনসুলিনের অভাবে গ্লূকোজ রক্ত থেকে শরীরের প্রবেশ করতে পারে না । শরীরের টিস্যূগুলো খাদ্য পায় না ।

 

 

টাইপ ১ এবং টাইপ ২ এর মধ্যে পার্থক্য

শরীরে যখন কোন ইনসুলিনই উৎপাদন হচ্ছে না , সেটাই টাইপ ১ ডায়বিটিস । শতকরা প্রায় দশ জনের ডায়াবেটিস হল টাইপ ১ ডায়াবেটিস ।  এদের ক্ষেত্রে বাহির থেকে ইনসুলিন দিতে হয় ।

শরীরে  যখন পর্যাপ্ত  ইনসুলিন উৎপাদন হচ্ছে না কিংবা হলেও সঠিকভাবে কাজ করতেছে না সেটা টাইপ ২ ডায়বিটিস ।  এই ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস অতিরিক্ত না হলে নিয়মিত ব্যায়াম এবং খাবার নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন সম্ভব হয় ।

তবে টাইপ ১ এবং টাইপ ২ দুই ধরনের ডায়বিটিসের জন্যই  গ্লূকোজ   রক্ত থেকে শরীরের কোষে প্রবেশ করতে পারছে না । ফলে ডায়াবেটিস হওয়া মানে রক্তে গ্লূকোজ বা সুগার অধিক পরিমানে জমতে থাকা ।

 

 

কিভাবে বুঝবেন আপনার ডায়বিটিস আছে  ?

ডায়াবেটিস  হলে অতিরিক্ত প্রস্রাব হবে, অনেক বেশি পানির পিপাসা লাগবে , শরীরে খুব বেশি ক্লান্তি লাগবে, ইনফেকশন জনিত ক্ষত বা কাঁটাছিঁড়া সহজে ভাল হবে না । এছাড়া খুব সহজেই আপনার নিকটবর্তী চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তে সুগারের পরীক্ষা করলেই বুঝতে পারবেন আপনার ডায়বিটিস আছে কিনা । সকালে খালি পেটে ডায়বিটিস মাপলে  যদি ৫.৬ ( মিলি মোল প্রতি লিটারে) এর নিচে হয় তাহলে ধরে নিতে পারেন  আপনার ডায়বিটিস নেই, আর যদি ৫.৬ – ৬.৯  হয় তাহলে  ধরে নিতে পারেন আপনার প্রিডায়বিটিস আছে  । আর খালি পেটে সুগার যদি ৭ এর উপরে হয় এবং দুইটা আলাদা টেস্টেই ৭ বা এর উপর পান , ধরে নিতে পারেন আপনার ডায়বিটিস আছে ।

 

ডায়বিটিস যদি চিকিৎসা না করেন , তাহলে কি হবে –

রক্তে অনেক বেশি সুগার অনেক সময় ধরে থাকলে আমাদের হার্ট, কিডনি, চোখ এবং পা নষ্ট   হয়ে যেতে পারে । অর্থাৎ আমাদের মৃত্যু হতে পারে ।

 

 

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কি কিংবা  কিভাবে ডায়বিটিস  প্রতিরোধ করব  

১ । নিয়মিত এক্সারসাইজ  করতে হবে।

২। মিষ্টি এবং শর্করা জাতীয় খাবার  কম খেতে হবে ।

৩। পর্যাপ্ত পানি খাবেন ।

৪। ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন  ।

৫। ধূমপান পরিহার করুন ।

 

সর্বোপরি  ডায়াবেটিস কমানোর উপায় বা ডায়াবেটিস কমাতে চাইলে  অলসতা বা  আলসেমি  জীবন বাদ দিতে হবে । প্রচুর পরিমানে শারীরিক প্ররিশ্রম করতে হবে , যদি আমরা ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে চাই ।

 

ধন্যবাদ

ডাঃ সাইফুল ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান

ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার, উত্তরা,  ঢাকা ।

০১৯৩২-৭৯৭২২৯ ( অ্যাপয়েন্টমেন্ট )

 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সকল ধরনের জিনিস পত্র  এবং  বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন

বিজ্ঞানসম্মত ডিভাইস পেতে টেকনো হেলথ ভিজিট করুন

https://technohealth.com.bd/product-category/diabetes/

 

 

 

 

 

Leave a Reply